Build Your Digital Dreams with Mr. Digilab – Your Web Solutions Expert in Bangladesh

CONTACTS
Business

রেডিমেড ওয়েবসাইট কী ? কীভাবে কিনব? কোথা থেকে কিনব?

আপনি এখনি google-এ সার্চ করলে দেখবেন যে— একটি অনলাইন (ই-কমার্স, এফ-কমার্স) বিজনেসের সেলস বাড়ানোর এবং যে কোন বিজনেসের অধিক প্রচারের সবচেয়ে সহজ উপায় হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট৷ আবার আপনি যদি নিজের কোন কাজের প্রচার করতে চান অথবা নিজের কোন প্রতিষ্ঠানের প্রচার করতে চান সেক্ষেত্রেও সবচেয়ে সুন্দর পদ্ধতি বা মাধ্যম হচ্ছে একটি ওয়েবসাইট৷ আপনি চাইলে শুধুমাত্র নিজেকে দেশে-বিদেশে প্রচার করার জন্যও একটি ওয়েবসাইট রাখতে পারেন৷

এটা জানার পরে আমাদের মাথায় সর্বপ্রথম যেই ব্যাপারটি আসে তা হচ্ছে— ওয়েবসাইট কিভাবে বানানো যায়? অথবা ওয়েবসাইট কোথায় পাওয়া যায়?
আজকের এই আর্টিকেলটির মধ্যে আমরা এই বিষয়টি বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করবো৷

আমরা পুরো আর্টিকেলটিকে তিনটি পয়েন্টে ভাগ করে লিখব—

১. সাধারণত ওয়েবসাইট কত প্রকার হতে পারে এবং তারমধ্যে রেডিমেড ওয়েবসাইট কোনটি?
২. রেডিমেড ওয়েবসাইটের সুবিধা-অসুবিধাগুলো কি কি?
৩. কোথায় পাওয়া যায় এসব ওয়েবসাইট?

ওয়েবসাইট কত প্রকার?

ওয়েবসাইট মূলত দুই প্রকার:

১. স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট: স্ট্যাটিক ওয়েবসাইট হচ্ছে সেইগুলো— যাতে এমন কোন ইনফরমেশন বা তথ্য রাখা হয় (ইমেজ,  অডিও-ভিডিও বা লেখা) যেগুলো সাধারণত পরিবর্তনের প্রয়োজন হয় না৷ পোর্টফোলিও টাইপ আরকি৷

২. ডায়নামিক ওয়েবসাইট: ডায়নামিক ওয়েবসাইট হচ্ছে সেইগুলো— যার মধ্যে রাখা সকল তথ্য আপনি আপনার মন-মতো পরিবর্তন করতে পারবেন, অর্থাৎ যে কোন লেখা, ইমেজ এবং যে কোন অডিও-ভিডিও যখন ইচ্ছে তখন পরিবর্তন করতে পারবেন৷

রেডিমেড ওয়েবসাইট:

রেডিমেড ওয়েবসাইট উক্ত ডায়নামিক ওয়েবসাইটেরই একটি প্রকার৷

ওয়েবসাইট বানানো আর রেডিমেড ওয়েবসাইট কেনার মধ্যে পার্থক্য কি?

এমনিতে আপনি যদি কোন ওয়েবসাইট বানাতে চান— সেক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে ডোমেইন-হোস্টিং কিনতে হবে, তারপর কোন একটি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি অথবা ব্যক্তির কাছে গিয়ে ওয়েবসাইট ডেভেলপের ব্যাপারে কথা বলে দামদর করতে হবে এবং সেই ওয়েবসাইটটিতে ডিজাইন করার জন্য আবার আপনাকে একজন ওয়েব-ডিজাইনার নিয়োগ দিয়ে, তার মাধ্যমে ওয়েবসাইটটি ডিজাইন করিয়ে নিতে হবে৷
অপরদিকে রেডিমেড ওয়েবসাইটের জন্য আপনাকে কোথাও যেতে হবে না, আপনি সমস্ত কিছু পেয়ে যাবেন যে কোন একটি কোম্পানির কাছেই৷

চলুন উদাহরণ সহ রেডিমেড ওয়েবসাইটের বিষয়টি বুঝি:

সম্ভবত “রেডিমেড” শব্দ দ্বারাই আপনি বুঝতে পেরেছেন রেডিমেড ওয়েবসাইটের মানে কি! তারপরও একটি উদাহরণ দিলে আরো সুন্দর করে বিষয়টি বুঝা যাবে আশা করি৷

রেডিমেড মানে তো হচ্ছে যেটা অলরেডি বানানো হয়ে গিয়েছে, যেমন: রেডিমেড কাপড় ৷

ধরুন, রেডিমেড একটি পাঞ্জাবি—যেটা বানাতে আপনাকে কোথাও থেকে দামদর করে কাপড় কিনে, তারপর একজন দর্জির কাছে গিয়ে, নিজের মতো পছন্দ করে ডিজাইন করিয়ে নিতে হচ্ছে না৷ এত জায়গায় গিয়ে এত কষ্ট না করে বরং আপনি সরাসরি রেডিমেড কাপরের কোন একটি দোকানে গিয়েই পাঞ্জাবিটা পেয়ে যাচ্ছেন৷ তবে সেটা হয়তো আপনার শরীরের সাথে ফিট করার জন্য একটু রি-সাইজ করে নিতে হচ্ছে, রেডিমেড ওয়েবসাইটের ব্যাপারটিও এমনি৷ 

ওয়েবসাইটের জন্য রেডি করা থিম পাওয়া যায়, সেখান থেকে আপনার পছন্দমত থিমটা যাস্ট চয়েজ করে আপনি আপনার ওয়েবসাইটটি কাস্টমাইজ করে নিতে পারবেন, আপনাকে কোন ডেভেলপার খুঁজতে হবে না, কোন ডিজাইনারের কাছে যেতে হবে না এবং ডেভেলপমেন্টের কোন কিছু বুঝতেও হবে না৷

রেডিমেড ওয়েবসাইটের সুবিধাগুলো কি কি?

  • সময় কম লাগে: আমরা সাধারণত যখন কোন বিজনেস শুরু করি তখন অনেকেরই হাতে লম্বা সময় থাকে না, আমাদের টার্গেট থাকে— কিভাবে অল্পদিনে বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়? কিভাবে দ্রুত মুনাফা অর্জন শুরু করা যায়? কিভাবে ব্যবসা বড় করা যায়? সেক্ষেত্রে রেডিমেড ওয়েবসাইট হতে পারে আমাদের জন্য সুন্দর সমাধান৷

কেননা একটা বড় ওয়েবসাইট বানিয়ে ইনস্টল করার জন্য আপনাকে কোন কোন ক্ষেত্রে ছয়মাস-একবছর সময় দিতে হতে পারে, অপরদিকে রেডিমেড ওয়েবসাইটটি আপনি পেয়ে যাচ্ছেন কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই৷

  • খরচ কম হয়: কেউ যখন নিজের (নিজের যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা ইত্যাদির) প্রচারের জন্য অথবা নিজের কোন প্রতিষ্ঠানের জন্য কোন ওয়েবসাইট বানাতে চায় সেক্ষেত্রে অধিকাংশ সময়ই বাজেট কম থাকে কারণ এটা থেকে সরাসরি কোন আয় হয় না৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই বড় বাজেট রাখাটা পসিবল না৷  আবার যদি নিজের কিংবা প্রতিষ্ঠানের জন্য নাও হয়, কোন বিজনেসের জন্য হয়,  তাহলেও বিজনেসের শুরুর দিকে ২-৫ লাখ টাকা মূল্যের ওয়েবসাইট বানানো সম্ভব হয় না, তাই বলে কি আপনার বিজনেসের জন্য কোন ওয়েবসাইট নিবেন না? অবশ্যই নিবেন৷

আপনি জানেন কি, একটা রেডিমেড ওয়েবসাইট সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকার মধ্যেও পাওয়া যায়? 

সুতরাং আপনার ছোট বিজনেসটির জন্য অল্প বাজেটের মধ্যেই সুন্দর একটি ওয়েবসাইট কাস্টমাইজ করে কিনে নিতে পারবেন, যা একমাত্র রেডিমেড ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই সম্ভব৷

আপনি একটি ওয়েবসাইট বানাতে চাইলে আপনার অনেক বেশি খরচ পড়ার কারণ হলো— আপনাকে ডেভলপার এবং ডিজাইনার হায়ার করতে হবে, কনটেন্টের জন্য আলাদা লোক নিতে হবে এবং প্রত্যেককেই আলাদা আলাদা খরচ দিতে হবে, তাতে আপনার বাজেট বেড়ে যাবে৷ অপরদিকে রেডিমেড ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে আপনাকে আলাদা আলাদা কোন টাকা দিতে হচ্ছে না, এক জায়গায়ই পেয়ে যাচ্ছেন সব৷

  • ডেভেলপমেন্ট জানতে হবে না: যদি আপনি ওয়েবসাইট বানাতে চান, সেক্ষেত্রে আপনার ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কিছু জ্ঞান থাকতে হয়, আপনাকে বুঝতে হবে কোন থিমটা ইউজ করবেন, কিভাবে ডিজাইন করালে ভাল হবে, মোটকথা আপনাকে সস্তা জিনিস দিচ্ছে কি না? প্রফেশনাল কাজ পাচ্ছেন কি না— এটা বুঝার মতো জ্ঞান অন্তত থাকতে হবে, অন্যথায় ঠকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ রেডিমেড ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে এই সম্ভাবনা নেই৷

সুতরাং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কে যদি আপনার কোন জানাশোনা না থাকে তাহলে আপনার জন্য রেডিমেড ওয়েবসাইট হবে একটি সুন্দর সমাধান৷ কেননা রেডিমেট ওয়েবসাইট প্রফেশনাল ডেভেলপার এবং প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনাররাই বানিয়ে থাকেন।

  • সবকিছুই পরিবর্তন করতে পারবেন: আপনার ওয়েবসাইটের সকল ইনফরমেশন (ইমেজ, লেখা এবং অডিও-ভিডিও) যখন ইচ্ছে তখন পরিবর্তন করতে পারবেন, পণ্যের ছবি এবং মূল্য পরিবর্তন করতে পারবেন বারবার৷

রেডিমেড ওয়েবসাইটে কিছু লক্ষ্যণীয় বিষয়

রেডিমেড ওয়েবসাইটের কিছু অসুবিধাও রয়েছে, তাই অসুবিধাগুলো থেকে বাঁচার জন্য আপনাকে কয়েকটি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রেখে ওয়েবসাইটটি কিনতে হবে—

তার আগে জেনে নিতে হবে, কোথায় এইসব রেডিমেড ওয়েবসাইট পাওয়া যায়? 

বাংলাদেশে সাধারণত রেডিমেড ওয়েবসাইটগুলো বিভিন্ন কোম্পানি বিক্রি করে থাকে, ভিন্ন ভিন্ন মূল্যে আপনাকে তারা বিভিন্ন ধরনের ওয়েবসাইট অফার করবে, আপনি গুগল করলেই অনেকগুলো এরকম কোম্পানীর খোঁজ পেয়ে যাবেন৷ আপনি ইনশাআল্লাহ আমদের থেকেও সেরা মানের রেডিমেট ওয়েবসাইট নিতে পারবেন।

যেসব বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রেখে রেডিমেড ওয়েবসাইট কিনবেন !

ওয়েবসাইট যেখান থেকেই কিনুন না কেন কিছু বিষয় আপনাকে খেয়াল করতে হবে। এতে করে ঠকার বা পরবর্তী বিড়ম্বনায় পড়পর সম্ভাবনা থাকবেনা।

১. সুইটেবল কি না?

রেডিমেড ওয়েবসাইটের থিমগুলো বিভিন্ন বিজনেস মডেলের কিংবা বিভিন্ন টাইপের হয়ে থাকে, আপনার বিজনেসের জন্য বা আপনার কাজের জন্য ওয়েবসাইটটি স্যুট করবে কি না সেটা সবার প্রথমে খেয়াল করতে হবে৷ যদি স্যুট না করে তাহলে আপনার জন্য বিকল্প দেখাই উত্তম৷

২. থিম বা ডিজাইন সম্পর্কে: আপনি কয়েকটি কোম্পানির কাছ থেকে তাদের ওয়েবসাইটের ডেমো নিয়ে দেখে নিবেন যে কোন কোম্পানিরটা সুন্দর, কারা ইউনিক থিমের ডিজাইন অফার করছে, কম্পেয়ার করে তারপর আপনি চুজ করবেন৷ 

৩.খরচ সম্পর্কে: কারা তুলনামূলক টাকা কম রাখছে এটাও হিসেব করে দেখবেন—অবশ্য তার মানে এই নয় যে টাকা কম রাখলেই সেটা ভাল অফার হবে আপনার জন্য— টাকা কম রেখে সস্তার জিনিসও ধরিয়ে দিতে পারে৷ তবে সুবিধার কথা হচ্ছে আপনি সব কোম্পানির থেকেই ডেমো দেখে, মূল্য জেনে তারপর একটা কনক্লুশনে পৌঁছাতে পারবেন৷ 

৪. কোম্পানি সম্পর্কে: তাদের অফিস কোথায়, তাদের কোম্পানির রেটিং কেমন এসবও জানার চেষ্টা করবেন, সাপোর্ট সেইফটির জন্য৷ কেননা যদি এমন কোন কোম্পানি হয় যাদের নিজেদের নির্দিষ্ট অফিস নেই তাহলে তাদের লং টাইমে রান করার ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে, এতে করে তারা উধাও হয়ে গেলে আপনি সাপোর্ট সার্ভিস পাবেন না, এজন্য আপনি তাদের লাইসেন্স বা তারা কত লং লাস্টিং করবে এইটা খেয়াল করে তারপর তাদের থেকে ওয়েবসাইট নিবেন৷ 

৫. সাপোর্ট সার্ভিস সম্পর্কে: কতদিনের সাপোর্ট সার্ভিস অফার করছে সেটা জেনে নিবেন৷ তাদের কোম্পানি অনেকদিন টিকে থাকলেও তারা যদি আপনাকে সাপোর্ট সার্ভিসের একটা লিমিটেড টাইম দেয় তাহলে পরে সাপোর্ট সার্ভিসের জন্য আপনাকে আলাদা পেমেন্ট করা লাগতে পারে, সেজন্য এটাও আগে জেনে নেবেন যে কতদিন সাপোর্টের অফার করছে এবং সেই হিসেবে কম্পেয়ার করবেন৷ তাহলে আপনি ওয়েবসাইটটা নিয়ে হয়তো কোন সময় ঝামেলায় পড়বেন না৷ 

এইসব কিছু দেখে তারপরে একটি ওয়েবসাইট কিনলে আশা করছি আপনি অল্প টাকার মধ্যেই একটি সুন্দর রেডিমেড ওয়েবসাইট পেয়ে যাবেন এবং সেটি— আপনার বিজনেসের প্রচার করার জন্য বা সেলস বাড়ানোর জন্য, আপনার নিজের কোন প্রতিষ্ঠানের প্রচার করার জন্য এবং আপনার কাজের অভিজ্ঞতার প্রচার করার জন্য সবচাইতে সহজ এবং সুন্দর মাধ্যম হয়ে উঠবে ৷

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *